আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারোকাতুহ , ইন্নাল হামদা লিল্লাহ । সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ'র যিনি আমাদেরকে তাউফিক দিয়েছেন এই প্রজেক্টে কাজ করার জন্য । আর সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়িদুল মুরসালিন খতামুন্নাবিইয়িন মুহাম্মাদ (সঃ) এর উপর , আমরা বলব, আল্লাহুম্মা সল্লি আলাইহি আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি ।
হে আল্লাহ্ আপনি আমাদের জন্য আপনার রহমাতের দরজাটা খুলে দিন । আমরা ফিরে আসতে চাই , রহমাতের দরজা দিয়ে শান্তির ঘরে ঢুকতে চাই । আমাদের সকলকে কবুল করুন , আমীন ।
হে আল্লাহ্ আপনি আমাদের জন্য আপনার রহমাতের দরজাটা খুলে দিন । আমরা ফিরে আসতে চাই , রহমাতের দরজা দিয়ে শান্তির ঘরে ঢুকতে চাই । আমাদের সকলকে কবুল করুন , আমীন ।
সে সময় বিদায় হয়েছে মানে মানুষ যা দেখতো তাই করতো ।
যেমন – ওরা না নতুন টেলিভিশিন নিয়ে আসছে , ওরা না কুকুরের বাচ্চা
নিয়ে আসছে , ওরা না এখন নতুন ডিজাইনের পোশাক পরতেছে , ওরা নাকি মার্কেটে
গিয়ে মার্কেটিং করতেছে , শপিং করতেছে তাই নাকি আমাকেও করতে হবে ।
একটা উপমা , এক ময়ূর ঢাকা শহরে এসে কাঁক প্রজাতিটিকে দেখে মুগ্ধ হয়ে
গেল । এত বর সমাজ ! কত ভালোমন্দ খায় , কি চমৎকার জায়গায় থাকে ! এই না হলে জীবন ?
সে এক কাককে গিয়ে তার মনের কথা বলল । বিচক্ষণ কাক বলল , আমাদের জীবন
চাইলে আমাদের মত হতে হবে । ময়ূর এক কথায় রাজি । কাকের পরামর্শে অনেক কষ্টে ময়ূর
তার লেজের বাহারি পালকগুলো তুলে ফেলল । এরপর মাথার চমৎকার ঝুটিটি ছিঁড়ে ফেলল।
গায়ের লোম ছাঁটতে ছাঁটতে প্রায় শেভই করে ফেলল । আরও অনেক প্রেশক্রিপশন দেয়া হল ।
কয়েক দিন পর আবারও দেখা করল ।
ময়ূর বলে এবার চলবে তো ?
নাহ , গায়ের রঙটা এখনও আমাদের মত হয়নি । রাস্তা ঠিক করা পিচে এক ডুব
দিয়ে এসো ।
প্রথম কয়েক দিন বেশ গেল ময়ূরের । কিন্তু পিচে ডুব দেয়ার পর সে আর
উড়তে পারেনা বললেই চলে এদিকে সে কাকেদের মত খাবার চুরি করতে পারেনা আর পচা খাবারও
তার মুখে রুচে না । বিবাদ বাড়তেই লাগল ।
শেষ পর্যন্ত তারের জালে ফেঁসে গিয়ে সে বন্দি হল ।
গল্পটা বানিয়ে বললাম । কিন্তু গল্পের পিছনের বাস্তবতাটা সত্যি ।
আমাদের দেশের মুসলিমদের অবস্থা এই ময়ূরের মত । আমরা ইসলাম ছেড়ে কাফিরদের অনুসরণ
অনুকরণে এতই মত্ত হয়েছি যে আমাদের সাড়ে সর্বনাশ ঘটে যাচ্ছে - তাও আমাদের চোখ খুলছে
না । যাদের চোখ খুলছে তাদের মুখ খুলছে না ।
উমার (রাঃ) এর একটি উক্তি চিন্তা করি ,
আমরা এমন জাতি যাদের কোন অস্তিত্ব ছিল না , সন্মান ছিল না ।
আল্লাহ্ আমাদের ইসলামের মাধ্যমে সন্মান দিয়েছেন । আমরা যদি ইসলাম ছেড়ে অন্য কোন
কিছুর মাধ্যমে সন্মান পেতে চাই তাহলে আল্লাহ্ আমাদের আবার লাঞ্ছিত করবেন ।
এ কথার সত্যতা রাস্তায় মিলেছে , বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে মিলেছে
, পাশের বাসায় মিলেছে , আমাদের নিজেদের বাসাই নগ্ন হামলা হচ্ছে ।
শেষ পর্যন্ত আমার অবস্থা কি ?
সন্মানিত ভাই ও বোনেরা !
আপনি তো মুসলিম আপনি তো সবকিছুতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া
তায়ালার কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আর নয় অন্যদের ব্যক্তিত্বের অনুকরণ ।
এখন থেকে অনুসরণ , অনুকরণ চলবে শুধুমাত্র কেবলমাত্র মুহাম্মাদ (সঃ)
এর ।
আমাদের সন্মানিত বোনেরা আপনারা তো খেয়াল রাখবেন রসুল (সঃ) এর
স্ত্রীগণের প্রতি ;
সকল সেরা সেরা মহিলা সাহাবী (রাঃ আনহা) দের প্রতি , কেন ভয় লাগে
তোমাদের ? জীবনে শান্তি , নিরাপত্তা তো ইসলাম দিয়েছে ।
স্মরণ কর আয়িশা (রাঃ) আনহা এর কথার দিকে ,
উম্মুল মুমিনিন আয়িশাহ (রাঃ) ( তিনি ছিলেন হাদিছের প্রফেসর ও
মুসলিম নারীদের প্রথম শিক্ষক) এর কথার দিকে একটু মনোযোগ দাও এবং শুন , যখন তিনি
রসূল (সাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন , মেয়েরা নিজেদের কাপড়কে (বোরখা বা অন্য পোশাক)
কতটুকু নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিবে ? তখন তাঁর উত্তরে রসূল (সাঃ) বলেছিলেন , তাঁরা
স্বীয় পদতালুর সামনে অর্থাৎ গোড়ালীর নিচে রেখে কাপড় পরবে । উম্মুল মুমিনিন পুনরায়
প্রশ্ন করলেন যে , যখন তাঁরা লম্বা কদমে হাঁটবে তখন কাপড়তো উঠে যাবে , তখন সে কি
করবে ? উত্তরে রসূল (সাঃ) বললেন , তাঁরা কখনও এক হাতের বেশি লম্বা কদমে হাঁটবেনা
। (বুখারি ও মুসলিম) ।
হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার আগেই যদি রাস্তা সম্পর্কে জানা থাকে তাহলে
হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেও এত বেশি ক্ষতি হবেনা ।
আমরাজানি পাহাড়ে উঠতে হলে ছোট ছোট প্রস্তর খণ্ডের উপরে পা রাখতে হয়
তাই বলে থেমে যাব ? না ! একটু কষ্ট হোক না , কষ্ট স্বীকার না করলে আর তো পাহাড়ে
উঠা হবেনা ।
দুনিয়ায় সবকিছুর বেলায় এরকমই হয়ে থাকে , দুনিয়ায় সামান্য কিছু পাওয়ার
জন্য এত মেহনত করতেছি সেখানে আখিরাতের ক্ষেত্রে মেহনত করার সময়ই এত আপত্তি , এত
কথা , রাত্রিতে জেগে থাকার তো কোন কথায়ই নেই ।
ভাই স্মরণ রাখা প্রয়োজন “দুনিয়ায় চলতে হলে যেমন টাকা প্রয়োজন ঠিক
তেমনি আখিরাতে চলার জন্য নিখুঁত নেকি প্রয়োজন ” ।
দুনিয়ার জীবনটা খেলনার , প্রতারনার , এখানে সব সময়ে সুখে থাকা যায়না
, মানুষ অসুস্থ হয়ে যায় , মানুষ হতাশ হয়ে যায় , মাঝে মাঝে অনেক বিপদ সব দিক থেকে
আসা শুরু করে এতে মানুষ হয়রান হয়ে যায় ।
আর ইসলাম সহজ-সোজা , শান্তিময় একারণে বাঁকা দুনিয়া , তিতা দুনিয়ায়
চলতে চলতে সুন্নাত পালন করতে একটু কষ্ট হয়ে যায় ; কিন্তু এটা খুবই অল্প
সময়ের জন্য। সবর করুন আর আল্লাহকে বলুন আল্লাহ তায়ালা আপনার জীবনে সুন্দর ব্যবস্থা
করে দিবেন ।
তারপরও কিছু বুদ্ধিজীবী থাকতেই পারে যারা জ্ঞানপাপী তারা বলতেই পারে
– খোঁড়া ওজুহাত দিয়ে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে ৭থামাতেই পারে । ১ আর ১ যোগ করলে ২ হয় ,
যে যতই বুঝাক না কেন যত যুক্তি দেখাক না কেন আমি জানি যে উত্তর ২ হবেই । আমি জানি
সুন্নাতের মধ্যেই শান্তি হবে ।
বিকল্প ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমি যদি কাঁদা রাস্তা দিয়ে জুতা পায়ে
হাঁটি তাহলে কাঁদা কাপড়ের পিছনে লেগে যেতেই পারে ; এই কারণে আমি যদি এখন শত্রু
খোঁজা শুরু করি যে কাঁদা কে লাগিয়ে দিল ?তাহলে আমি আমার চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ না ।
দ্বীন পালন করতে এখন আমাদের লজ্জা লাগে একটা ভালো চাকুরি পাই নাই ,
রেজাল্ট ভালো হয় নাই । এই অবস্থানে থেকে সুন্নাত পালন করবো ।
কি আশ্চর্য ব্যাপার ! এই দিকে আমাদেরই মা , বাবা , ভাই-বোন সবাই যেন
আমাদেরকে আরও ক্লান্ত করতেছে ।
শুনুন সন্তান যদি দ্বীনদার হতে চায় ,
সুন্নাতের অনুসারী হয়ে যায় ,
ইসলাম পালন করার মন চলে আসে ,
তবে সাবধান এই অবস্থায় ধাক্কা দিয়েন না যেন ; তাহলে জীবনের এই নৌকা
ডুবে যাবে । যা ছিল সবই হারিয়ে যাবে ।
টাকা আছে , ক্ষমতা আছে , বাড়ি-গাড়ী সবই আছে , সুন্দর সাথী আছে ,
কোথাও সুপারিশ করলে সুপারিশ গ্রহণ হয় । এরকম অনেক সন্তানের পরিবারে
কেন আমার মা কাঁদতেছে ?
কেন আমার বাবা কাঁদতেছে ?
কেন আমার এক ভাই আর এক বোনের কাছ থেকে দূরে থাকতেছে
কেনইবা তাঁরা কাঁদতেছে ?
মজার বিষয় (চোখের এই পানিগুলোর রং কিন্তু লাল তোমরা দেখো না)
সঙ্গি(তোমার স্ত্রী) পেয়ে সব কিছুই হারালে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সঙ্গিও(তোমার wife)
হারালে !!
এত কিছু কেন ঘটলো কারণ তো একটাই তা হল আগের জিনিস আগে হয়নি , শুরুর
কাজ শুরুতে করা হয়নি । প্রথম শিক্ষা প্রথমে দেয়া হয়নি ।
বাবা-মা বল ! এবার বল সন্তান তো ছোট সে শিখবে কি করে ? কে
শিখাবে এই প্রথম শিক্ষা , কে অভ্যাস করাবে তাঁকে সুন্নাতের ।
সন্তান ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে , বড় ডাক্তার হয়েছে , ব্যারিস্টার হয়েছে ,
মিনিস্টার হয়েছে কিন্তু এসব কিছু প্রথেমেই হলে নকল ; শান্তির জন্য
প্রথমেই দ্বীনদার হতে হবে , সুন্নাতের অনুসারী হতে হবে তারপরই তো ইঞ্জিনিয়ার
, ডাক্তার , ব্যারিস্টার , মিনিস্টার হবে ।
শুধু একটা বড় (গুণ) জিনিস নেই !
তা হল ইসলাম পালন করার মন নেই !
বাবা-মা , ভাই-বোন শুন স্নেহের সন্তান বা ভাইকে আদর করে যেন
কুরআন তুলে দেই , মিসওয়াক তুলে দেই , ডান দিকে ভালো কাজ করার অভ্যাস করিয়ে দেই ,
মাক্তাবে পাঠিয়ে দেই , আজান হলে মাসজিদে পাঠিয়ে দেই , নিষ্পাপ মুখে জিকির শিখিয়ে
দেই ।
আমার কিসের গর্ব ,অহংকার ! অহংকার কেবলমাত্র শুধুমাত্র আল্লাহ
তায়ালার জন্য । একটু চিন্তা করুন তো আপনার তো একসময় এরকম কিছু ছিলনা , আপনাকে কেউ
জানতোনা এই অল্প সময়ের গর্ব-অহংকার কতদিন থাকবে ; আবার এমন একদিন আসতেছে যে আপনি
থাকবেননা যখন যাইতেই হবে তাহলে সব হিসাব বাদ দিয়ে
দেন । আজকে সিদ্ধান্ত নিন ! আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নিন ।
দেন । আজকে সিদ্ধান্ত নিন ! আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নিন ।
মৃত্যুর পরে যে বাড়িতে থাকতে হবে সে বাড়ি মরার পরে তো বানানো যাবেনা
দুনিয়ায় বসে বানাতে হবে।
হে আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিন আর ভুল হবেনা আমি ফিরে আসতে চাই । হে
আল্লাহ আপনি কবুল করেন। আমিন ।
সন্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা আমাদের জন্য দুয়া করেন , আল্লাহ্ যেন আমাদের সময়ের মধ্যে বারোকাহ দেন । আমীন। হে আল্লাহ্ আপনি আমাদের এই কাজকে কবুল করেন । আমীন ।
ইংশা-আল্লহ আগামী দিন নতুন পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করা হবে ।
আর দুয়া করেন আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের জন্য যারা বিভিন্ন দেশে চরমভাবে নির্যাতিত , নিপীড়িত , অসহায় । আল্লাহ্ যেন তাদেরকে হিফাজত করেন । আমীন ।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক ।





