আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ , ইন্নাল হামদা লিল্লাহ । সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ'র যিনি আমাকে তাউফিক দিয়েছেন এই প্রজেক্টে কাজ করার জন্য । আর সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়িদুল মুরসালিন খতামুন্নাবিইয়িন মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর , আমরা বলব , আল্লাহুম্মা সল্লি আলাইহি আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি ।
আমি
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নাই । যাবতীয় মূর্তি , প্রতীক , সাধু , সন্ত
, জ্যোতিষী , পাদ্রী , সন্ন্যাসী , পুরোহিত ইত্যাদি তগুতি পূজা ও
আনুগত্য কে অস্বীকার করার সাথে সাথে একমাত্র আল্লাহ্
সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কেই সত্য ইলাহ হিসাবে স্বীকার করলাম । আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি
যে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্র প্রেরিত বান্দা ও রসুল ।
আর আমি
সাহায্য চাই আল্লাহ্ তায়ালার কাছে (হে আল্লাহ্ আমরা আপনারই ইবাদাত করি এর আপনার
কাছেই সাহায্য চাই । সূরা ফাতিহা/১(০৫)
সাহায্যটা আসলে কি(আমাদেরকে সরল
সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। সূরা ফাতিহা/১(০৬) আর আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি আল্লাহ্র
কাছে (রব্বিগ ফিরলী অর্থঃ হে আল্লাহ্ আমাকে ক্ষমা করুন) আর আমি আশ্রয় প্রার্থনা
করি আল্লাহ্র কাছে শাইতন হতে ।
আল্লাহ্
যাকে পথ দেখান সে কখনও পথভ্রষ্ট হয়না আর আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন সে কখনও সরল
পথ পায়না । বন্ধুরা একটু ভাবুন ! আল্লাহ্ কি কাউকে পথভ্রষ্ট করতে চান ? তাহলে কেন পথভ্রষ্ট করেন ? বন্ধুরা এটা বুঝা খুব সহজ । যদি বুঝতে চান , তাহলে
থামুন !
চিন্তা করুন ! যাকে পথভ্রষ্ট করেন , সে বলে , আল্লাহ্ আমাকে পথভ্রষ্ট করেন । এটা
কি কেউ বলতে চায় ,
তবে কেন ? কারণ সে এমন আচরণ , এমন
ইবাদাত , এমন আ'মাল করে ;
সেই কাজগুলোর বা সেই আ'মালগুলোর ফাইসালা
বা বিচার হিসাবে তাঁকে পথভ্রষ্ট করা হয় ।
সুতরাং
বন্ধুরা আমাদের কি করা প্রয়োজন ? উত্তর
পাওয়া যাচ্ছেনা । শুনুন ,
আল্লাহ্ তায়ালাকে ভয় করা প্রয়োজন এবং সরল ও সঠিক কথা বলা প্রয়োজন । এই প্রবাদটিকে
আপনার স্মৃতিতে স্থান দিন । আর মাঝে মাঝে স্মরণ করবেন আর বুঝার চেষ্টা করবেন ,
۞
আপনি
থাকুন বা না থাকুন ইসলাম অবশ্যই বিজয়ী হবে। কিন্তু ইসলামকে ছাড়া আপনি হবেন
পথভ্রষ্ট ও পরাজিত । দুনিয়াতে লাঞ্ছিত ,
চিন্তিত , অপমানিত আর সবচেয়ে বড় বিষয় আপনি আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত । যে সময়ের শুরু
আছে আর শেষ নেই ।
বন্ধুরা
আমরা আল্লাহ্ তায়ালার গোলাম(তাঁর বান্দা ,তাঁর সৃষ্টি, কেমন সৃষ্টি ? আরে ভাই সেরা
সৃষ্টি) আমরা জানি , গোলামের কাজই হল গোলামী করা । তবে কেন আমরা
গোলামী থেকে এত
দূরে । কি হল আমাদের আমরা কেন মাসজিদে যেতে পারিনা , রুকু ও সিজদা করতে পারিনা
। কেন আমরা আযানের অর্থ বুঝিনা , কেন আমি
জুমুয়ার খুৎবা বুঝিনা , কেন প্রতি বছর রমাদান আসে আর যায় কিন্তু আমার পরিবর্তন
আসেনা । সেই আগের অবস্থায়ই । কেন আমাদের গল্পে কুরআনের কথা আসেনা , কেন কুরআন বুঝে
পড়িনা । কুরআনের বাস্তবতা রসুল (সাঃ) এর জীবনী । কেন সিরতের কিতাবের হাক্বিক্বত
আমাদের বুঝে আসেনা ।
বন্ধুরা
সত্যটা কি , খুঁজবেন না ? আমি মুসলিম মানে বুঝিনি ।
১। আল্লাহ্
সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কি চাচ্ছেন ?
২। নাবী (সাঃ)
কি করেছিলেন ?
৩। নাবীর সাথী সাহাবারা (রাঃ) কি বুঝেছিলেন ?
৪। কিভাবে বুঝলেন ?
৫। ইসলাম কি
চায় ?
আমি এখনও এটা বুঝতে পারিনি । ইসলাম তো চায় দুনিয়ায় শান্তি আর আখিরতে মুক্তি
। ইসলাম চায় সে হবে মুসলিম , একটি ফুলের মত যার একটি পরিচয় আছে , যার সৌন্দর্য আছে
, যে সুগন্ধি ছড়াবে , সব-সময় ত্যাগের মন থাকে , কিছুদিন পরে সেখান থেকে ফল হবে । মানুষ আহার
করবে আর শুধু তৃপ্তিই পাবে ।
একটা উপমা , গোলাপ তাঁর সুগন্ধি বিলায় তাঁর একটি অসাধারণ গুণ । চিন্তার বিষয় ! তাঁর গায়ে কাঁটা আছে । কেউ সুগন্ধি আনতে গিয়ে যদি বিশৃঙ্খলা ছড়ায় তাহলে তাঁর কিছু দায়িত্ব থাকে । দায়িত্ব কি ? বিশৃঙ্খলা করলে কাঁটার আঘাতে রক্ত বের হয় । আমরা মুসলিম সুগন্ধি ছড়াব কিন্তু কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাঁকে প্রতিবাদ করে জানাবো আমারা শান্তিতে সংগ্রামে পৃথিবীতে দুর্জয় । এখন কিছু হারানো বিষয় স্মরণ করা ।
১। কেন আমাদের কথার মাঝে
সত্যের ঘ্রাণ আসেনা ?
২। কেন শান্তির বার্তা আসেনা ?
৩। কেন সংগ্রামে , প্রতিরোধে , প্রতিবাদের , বিষয়
থাকেনা ?
৪। কোথায় সেই মুসলিম ?
৫। আমাদের ভাষণে আল্লাহ্র বড়ত্ব প্রকাশ পায়না । নাবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ
আসেনা ।
৬। কেন
আমার চিন্তায় আল্লাহ্র সৃষ্টি তত্ত্ব স্থান পায়না ?
দুনিয়ার ছোট বিষয়গুলো নিয়ে
আমি কত চিন্তা করতে পারি । সামান্য
সবজির দোকানে কিছু ক্রয় করতে গেলে আমার চিন্তা শক্তি , আমার দৃষ্টি শক্তি , আমার
শ্রবণ শক্তি কিভাবে কাজ করে ।
চিন্তা করে , দেখে আবার শুনারও চেষ্টা করে যাতে ভালো কিছু ক্রয় করতে পারি । এই হল
সামান্য সবজির দোকানে আমাদের অবস্থা । ভালো সবজি ক্রয় করতে হবে বুঝলাম কিন্তু বন্ধু ভালো মানুষ
হতে হবে এজন্য কি করলাম ? ভালো মানুষ তো সে , যে আল্লাহ্র
কাছে ভালো ।
তাই বন্ধু আমি এবার আমাকে নিয়ে একটু ভাবার চেষ্টা করি ।
গাছ থেকে
যখন আপেল পড়ল তখন সবাই বলল,
গাছ থেকে আপেল পড়েছে । কিন্তু সব
মানুষের মধ্যে এক ব্যক্তিই শুধু জানতে চাইল কেন আপেলটি পড়েছে?
আর তার মাধ্যমেই আবিষ্কৃত হল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।
আমার চিন্তাশীল , আমার
বুদ্ধিজীবী বন্ধুরা ! আজকে তোমরাও , আজকে আমরাও একটু চিন্তা করি । “??কেন??” এর উত্তর বের করে
মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করি । ভাবতেছেন আমি আবার অমুসলিম নাকি । মুসলিম হওয়ার কথা
বলতেছে ।
কেননা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে লক্ষ্য করে বলতেছেন –
হে
বিশ্বাসীগণ ! তোমরা আল্লাহ্ তায়ালাকে প্রকৃত ভীতি সহকারে ভয় কর এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ব্যতিত মৃত্যু বরণ
করো না । সূরা ইমরান/০২(১০২)
বন্ধু মুসলিম তো সে , যে তাঁর প্রতিটি কাজে আল্লাহ্র
কাছে আত্মসমর্পণ করে । যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এক ফোটা নাপাক পানি থেকে । তিনিই
আপনাকে এই তরল পদার্থ থেকে কঠিন পদার্থে রূপ দিয়েছেন ।
সুতরাং তোমরা
কোন পথে চলছো ?(২৬) এটা তো (কুরআন) শুধু বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ ।(২৭) তোমাদের
মধ্যে যে সরল পথ চায় তাঁর জন্যে । (২৮) তোমরা ইচ্ছা করলেই হবেনা যদি বিশ্ব জগতের রব্ব মহান আল্লাহ্
ইচ্ছা না করেন । (২৯) সূরা তাকবির/৮১(২৬-২৯)
আর তুমি হারিয়ে আছো অহেতুক আলাপ-প্রমোদের মধ্যে ।
কি ঠিক বলেছি তো ? নিজেকে প্রশ্ন করুন আর ফিরে আসুন নিজের ঘরে ।
১। আমি কেন আসলাম ?
২। দুনিয়াটা আসলে কি ?
৩। কার কাছ
থেকে আমি আসলাম ?
৪। আমি ছিলাম কোথায় ?
৫। আমি এখানে কি করব ?
৬। মানুষগুলো মারা গেলে
যাচ্ছে কোথায় ?
৭। কেন এরা ফিরে আসেনা ?
৮। এরা এসেছিল কেন ?
৯। তাহলে কি এরপর আমার শেষ হয়ে
যাবে ?
১০। তাহলে যাব কার কাছে ?
১১। তাঁর কাছে গেলে কোন জবাবদিহিতা আছে কিনা ?
১২। একটু
চিন্তা করি আমার সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি ?
১৩। আমি রুহের জগত থেকে মায়ের পেটের জগতে তারপর আমি কোথায় ?
এই যে , দুনিয়ায় । এখানে ।
ছবিঃ চিন্তা করুন তো আপনার পরবর্তী জগত কেমন হতে পারে ? আপনি এতদিনে কি করলেন ?
এখানে এসে আমরা এসব ভুলে গেছি । বন্ধু স্মরণ করুন ! তাড়াতাড়ি রুহের জগতে
বললাম ,
আপনি আমাদের রব্ব । এখন রব্ব বানিয়েছি অন্যদেরকে । বিশ্বাস হচ্ছেনা । তাহলে রবের মানে একটু বুঝার চেষ্টা
করুন । রব্ব চারটি অর্থে ব্যবহার হয়—
১। রব্ব অর্থ স্রষ্টা ।
২। রব্ব অর্থ লালন-পালনকারী।
৩। রব্ব অর্থ মালিক ।
৪। রব্ব অর্থ বিধানদাতা ।
আমার
সামাজিক , আমার রাষ্ট্রীয় জীবনে লালন-পালনকারী , মালিক , বিধানদাতা হিসাবে কাকে
গ্রহণ করেছি । বুঝতে সহজ হবে , আল্লাহ্ বিধানদাতা হিসাবে , চুরির বিধান ,
ব্যভিচারের বিধান , সুদের বিধান , মদের বিধান দিয়েছেন কিন্তু কোথায় সেই বিধান ? যে
বিধান আল্লাহ্ দিয়েছেন । সৃষ্টি যার
বিধান চলবে তাঁর ।
এই চারটি অর্থের কোন একটি অর্থ যদি আপনি নিজের মন থেকে তুলে দেন
,তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন
১। আপনি কি মুসলিম থাকবেন ?
২। আপনি কি মু’মিন থাকবেন ?
মনে হতে পারে উত্তর বলতে পারছিনা । আপনি মু’মিন তাই আপনার মনে আঘাত লেগেছে । বলা
খুব কষ্ট হচ্ছে । জীবন একটাই ; বিদায় হলে খবর নেয়ার কেউ নাই খবর নিবেন কে ?
আল্লাহ্ ।
বন্ধুরা আজ থেকে সব হিসাব বাদ । হিসাব চলবে আল্লাহ্র ।
আমি আল্লাহ্র , এই পৃথিবী আল্লাহ্র , এই সৃষ্টি আল্লাহ্র , আসমান-জমিন তো আল্লাহ্র । অতএব সব বড়ত্ব , প্রভুত্ব , সার্বভৌমত্ব , একত্ব , উচ্চগিত করলাম । আল্লাহকে রব্ব হিসাবে মেনে সব তগুত কে , সব মিথ্যা ইলাহ কে অস্বীকার করলাম ।
ভাবতেছেন , ইলাহ আবার কে ? যার কাছে মাথা নত করা হয় , যার ইবাদাত করা হয় ইত্যাদি
। তাঁরা সমাজে মিথ্যা ইলাহ হিসাবে রূপ নেয় ।
যাহোক আমরা
হয়তো বুঝার চেষ্টা করতেছি । হে আল্লাহ্ আপনি কবুল করেন । আমরা চেষ্টা করতেছি
আপনি সহজ করেন । আমীন ।
আমরা
একটু ভিন্ন বিষয়ে মন দেয়ার চেষ্টা করি ।
বন্ধুরা ! জীবনে চলার পথে পড়ে আছে অসংখ্য পাথর।
এতে তোমার চলার পথ যেন থেমে না যায়। বরং পাথরগুলো কুড়িয়ে তৈরি কর সাফল্যের সিঁড়ি।
কিছু অর্জন করতে হলে কিছু ত্যাগ করতে হয় । ছোট জীবন কত সামানা তৈরি করে রেখেছি
যেখানে আমরা সারা জীবন থাকবো সেখানের সামানার খবর কি বন্ধু ?
বন্ধুরা আপনারা যদি
কিছু মর্যাদা অর্জন করতে চান, তবে নিজের আমিত্বকে মিটিয়ে দেন। যেমনিভাবে
একটি শস্য দানা নিজেকে মাটির সঙ্গে মিটিয়ে দিয়ে একটি সুন্দর বাগান উপহার দেয়।
আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজই হবে আমাদের রব আল্লাহ্র পক্ষ হতে। কখন কি করতে হবে,
কিভাবে করতে হবে তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন
। এখন প্রয়োজন জ্ঞান অর্জন করা , আর জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য
ফারয করা হয়েছে ।
নিম্নে এই হাদিস আমাদের জীবন পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে যদি বুঝতে পারি-
ইবনি উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন , রসুলুল্লাহ (সাঃ) আমার কাঁধ ধরে বললেন ,
দুনিয়াতে অপরিচিত অথবা ভ্রমণকারী মুসাফিরের মত হয়ে যাও ।
ইবনি উমার (রাঃ) বলতেন , সন্ধ্যা বেলায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা করো না । আর সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না । অসুস্ততার জন্য সুস্থতাকে কাজে লাগাও , আর মৃত্যুর জন্য জীবিত অবস্থা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করে নাও । বুখারি (৬৪১৬)
সন্মানিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা আপনারা আমার জন্য দুয়া করেন , আল্লাহ্ যেন আমার সময়ের মধ্যে বারোকাহ দেন । আমীন । আমার এই কাজকে কবুল করেন । আমীন । ইংশাা-আল্লহ আগামী দিন নতুন পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করব ।
আর দুয়া করেন আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের জন্য যারা বিভিন্ন দেশে চরমভাবে নির্যাতিত , নিপীড়িত , অসহায় । আল্লাহ্ যেন তাদেরকে হিফাজত করেন । আমীন ।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আংতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক ।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন